বিশেষ প্রতিবেদন
তারিখ: সোমবার ৩০ মার্চ ২০২৬ খ্রি:
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ২০১ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ
ঢাকা: দেশের জলজ সম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মুন্সিগঞ্জের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০১ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জোনের একটি বিশেষ টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোস্ট গার্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (স্টেশন কমান্ডার/জোন কমান্ডার পর্যায়ের)। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও সহযোগিতা করেন।
অভিযানের সময় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা দিয়ে একাধিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে পাচারকৃত জাল পরিবহনের সময় সেগুলো আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে ব্যবহারের জন্য এসব নিষিদ্ধ জাল সরবরাহ করে আসছিল।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “জব্দকৃত জালের পরিমাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
এদিকে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত জালসমূহ আইন অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল মাছের প্রজনন চক্র ধ্বংস করে দেয়। এতে করে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে এবং নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
কোস্ট গার্ডের অপারেশন টিমের সদস্যরা
নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি
মৎস্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এর পেছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যারা দেশের বিভিন্ন নদীতে এসব জাল সরবরাহ করে।”
সংঘবদ্ধ চক্রের ইঙ্গিত
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কারেন্ট জাল আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ করে আসছে। এই চক্রটি সাধারণত—সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জাল প্রবেশ করায় গুদামে মজুদ রাখে
ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে কেন ভয়ংকর এই জাল বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল মাছের জন্য “নীরব গণহত্যার” মতো।
ডিমওয়ালা মাছ ধ্বংস হয় পোনা মাছ নির্বিচারে মারা পড়ে
নদীর জীববৈচিত্র্য ভেঙে পড়ে ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মাছ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রশাসনের অবস্থান
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “জব্দকৃত জালের পরিমাণ ও মূল্য দেখে আমরা বিস্মিত। এই চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে—
জব্দকৃত জাল আইন অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,
“শুধু অভিযান নয়, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের ধরতে না পারলে সমস্যা থেকে যাবে।”
বিশ্লেষণ ও গনমাধ্যমে
এই অভিযান প্রমাণ করে—নিষিদ্ধ জালের ব্যবসা এখনো বড় আকারে সক্রিয়। নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক মুন্সীগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন অঞ্চলে এই কারেন্ট দলের উৎপাদন কারখানা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ।