সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

প্রধানমন্ত্রী যখন খাল খননের মহাপরিকল্পনায়, গাজীপুরে তখন উল্টো চিত্র: কর্মকর্তা ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে নদী ভরাট।

admin / ৪৪ Time View
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

64

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

এস রহমান, গাজীপুর 

যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেখানে গাজীপুরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য যখন কৃষি সেচ নিশ্চিত করা এবং দেশকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা, ঠিক সেই সময় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার চক্রবর্তী এলাকায় চলছে নদী ও সরকারি খাল চুরির মহোৎসব।

সরকারি খাতা-কলমে নদী ও খাল থাকলেও বাস্তবে সেখানে চলছে বালু ভরাটের তণ্ডব। অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৮-এর কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই ভূমিদস্যুরা নদী ভরাট করে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাশিমপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ১২৫ নং দাগের সরকারি খাল ও নদীটি ভূমিদস্যুরা ড্রেজার বসিয়ে বালু ভরাট করছে। ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও, স্থানীয় ভূমি অফিস ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এই নগ্ন দখলের বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মোঃ মনোয়ার হোসেন, কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো তিনি দায়সারাভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে, সার্ভেয়ার মো: মোশারফ হোসেনের ভূমিকা আরও রহস্যজনক। একাধিকবার স্থান পরিদর্শন করলেও তিনি আজ অবধি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যের সাথে বলেন, “এখনো প্রতিবেদন দিইনি, আগামী সপ্তাহে দেব।” স্থানীয়দের অভিযোগ, সার্ভেয়ারের এই কালক্ষেপণ মূলত দখলদারদের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার এবং নদীর বুক চিরে ইমারত তৈরির সুবর্ণ সুযোগ করে দিচ্ছে।

প্রধান অভিযুক্ত দখলদার মো. সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে চরম ঔদ্ধত্য দেখান। নদীকে নিজের ‘ক্রয়কৃত সম্পত্তি’ দাবি করে তিনি প্রতিবেদককে রাগান্বিত ভাষায় বলেন, “আসেন, আমার সম্পত্তির মধ্য দিয়ে ঘুরে যান।” ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এমন বক্তব্য প্রমাণ করে যে, স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ সরাসরি এই অপরাধের সহযোগী।

ইতিমধ্যেই এক সচেতন নাগরিক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এর অনুলিপি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভরাট কার্যক্রমের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাশিমপুর এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘জলাবদ্ধতা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের পরিপন্থী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন দেশকে নদীমাতৃক গৌরবে ফিরিয়ে নিতে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, তখন গাজীপুরের এই ‘সরকারি চোরদের’ আস্ফালন সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই দখল উচ্ছেদ করে নদী রক্ষা করা হোক এবং জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category