ঢাকা, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে ফুটপাত বা রাস্তায় আর কোনো ধরনের ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। তবে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবসার ব্যবস্থা করা হবে।
আজ বিকেলে মিরপুরের মুকুল ফৌজ মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়।
প্রশাসক বলেন, “আমরা বিকল্প স্থানে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেব। ফুটপাতে বা রাস্তায় আর ব্যবসা করা যাবে না—এটি মাথায় রেখেই আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, পূর্বে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করত, তাদের সে সুযোগ আর থাকবে না। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “মানবিক কারণে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছি। চাইলে আমরা ফোর্স নিয়ে উচ্ছেদ করতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি। আমরা চাই আপনারা ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।”
সভায় হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত সময় এবং এমন জায়গায় ব্যবসার সুযোগ চান, যেখানে ক্রেতা পাওয়া সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তারা ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হবে। তাই পুনর্বাসনের আগে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময় দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ প্রেক্ষিতে প্রশাসক জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি কার্যকর সমাধান বের করা হবে এবং এ বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের একটি টোকেন দেওয়া হবে, যাতে কোনো চাঁদাবাজ তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করতে না পারে। “টোকেন পাওয়ার পর কেউ চাঁদা চাইলে দেবেন না, আমাদের জানাবেন—আমরা আপনাদের পাশে আছি,”—যোগ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।