বিশেষ প্রতিবেদন: কাজী আরিফ হাসান
তারিখ: সোমবার ৩০ মার্চ ২০২৬ খ্রি:
রাজধানী দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে নগরীর মহল্লা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। উঠতি বয়সের ১৫ থেকে ১৮ বছরের কিশোরদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে সংঘবদ্ধ অপরাধে—যার ফলে সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কিশোর গ্যাং দিনের বেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জটলা তৈরি করে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করছে এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এক মহল্লার কিশোরদের সঙ্গে অন্য মহল্লার কিশোরদের সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। ভয়ঙ্কর দিক হলো—এই সংঘর্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র যেমন চাপাতি, রামদা ও দা।
বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ রূপ নেয়। মহল্লার টং দোকান বা চায়ের দোকানগুলোতে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান, মাদক সেবন ও কেনাবেচা এবং মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কিশোরদের নৈতিক অবক্ষয় যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যৎ অপরাধপ্রবণ প্রজন্ম।
এলাকাবাসীরা জানান, এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করে না, বরং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অপমান বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দলবদ্ধভাবে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও হুমকির মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। পাশাপাশি বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে শব্দ দূষণ ও জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে কিশোর অপরাধের প্রবণতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া আগের তুলনায় এখন প্রকাশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নাম ভাঙিয়ে এসব কিশোররা নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিবারে নজরদারির অভাব, নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, মাদকের সহজলভ্যতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার—এই সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। তারা বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—কিশোর গ্যাং দমনে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, কিশোর গ্যাং কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে।