মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আগামী ফেব্রুয়ারির তারিখ : ০৮/০৮/২০২৫ ইং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে শুরু হয়েছে বিএনপির মনোনয়ন যুদ্ধ। মাঠে নামছেন একে একে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পোস্টার, ব্যানার, গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠছে এলাকা। কে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ পাবেন-সে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত।
এই আসনে এখন সবচেয়ে আলোচনায় আছেন সাবেক ডিআইজি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খান সাঈদ হাসান। দীর্ঘ পুলিশি ক্যারিয়ার শেষে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন তিনি। তার গণসংযোগের ধরণ এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এলাকাজুড়ে তার উপস্থিতি বিএনপির ভেতরে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
উল্লাপাড়া-সিরাজগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা, আয়তন ৪১৪ দশমিক ৪৩ বর্গ কিলোমিটার। এই আসনে মনোনয়ন পাওয়া মানেই বিএনপির জন্য বড় সুযোগ। কারণ এখানে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভাঙা কঠিন হলেও সঠিক প্রার্থী দিলে পাল্টে যেতে পারে সমীকরণ। ফলে প্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কার্যত নির্বাচনি ট্রেন গতি পেয়েছে। বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সরাসরি জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত করছেন। খান সাঈদ হাসানের রাজনৈতিক পথচলা
শুরু ১৯৭৯ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাত ধরে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে। এরপর দীর্ঘ সরকারি চাকরির কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ২০১১ সালে বড় ধাক্কা খান। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে একই মামলায় আসামি করা হয়। ক্রসফায়ার ও গুমের ভয়ে সাড়ে ৮ বছর পলাতক জীবন কাটান। ২০১৮ সালে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন এবং তাকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ২০২২ সালের মার্চে দণ্ড ভোগ ও জরিমানা দেয়ার পর ফের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন। বর্তমানে বিএনপির পুলিশ সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লাপাড়া-সলঙ্গা অঞ্চলে তার গণসংযোগে ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
বাজারে, চায়ের দোকানে, সামাজিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি এখন নিয়মিত বিষয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সেবামূলক কাজে যুক্ত হয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন। মনোনয়ন প্রসঙ্গে খান সাঈদ হাসান বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছি। মনোনয়ন দলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উন্নয়নের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারলে তবেই তৃপ্তি পাব। তবে মনোনয়ন দৌড়ে তিনি একা নন। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য এম আকবর আলী, সিমকি ইমাম খান, সাবেক উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব, জেলা নেতা আজাদ হোসেন ও কেএম শরাফ উদ্দিনও সক্রিয়। প্রত্যেকেই নিজস্ব বলয় শক্তিশালী করতে মাঠে নেমেছেন। উল্লাপাড়ার জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উল্লাপাড়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে হলে সাঈদ হাসানের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষানুরাগী মানুষ। সব এলাকায় এখন তার গ্রহনযোগ্যতা বেড়েছে।
তিনি সব জায়গায় ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে মাঠ গরম রাখছেন।