নিজস্ব প্রতিবেদক:
টঙ্গী এলাকার ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। ফুটপাত ও মূল সড়কের একাংশ দখল করে এসব দোকান বসানোয় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, আর সেই সুযোগে প্রতিদিন মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী ব্রিজ থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের ফুটপাত এবং অনেক জায়গায় সড়কের একটি লেন দখল করে ফলের দোকান, চা-স্টল, ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, কাঁচাবাজার, কাপড় ও জুতার দোকান বসানো হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যানজট নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। পাশাপাশি বেড়েছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, সড়কে দোকান বসানোর জন্য প্রতিদিন লাইনম্যানদের কাছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের বড় একটি অংশ প্রভাবশালী একটি চক্রের হাতে যাচ্ছে। মাস শেষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক লাখ টাকায়।
ভুক্তভোগী যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, “রাস্তাটা সবার জন্য হলেও এখন হাঁটার জায়গাটুকুও নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।”
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের পরপরই তারা আবার দখল করে নেয়। দ্রুতই বড় পরিসরে অভিযান চালিয়ে সড়ক দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়—চাঁদাবাজি ও দখলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।