সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিজয়ী, ইসির সংশোধনী গেজেটও প্রকাশিত; শপথ না হওয়ায় হাইকোর্টে রুল  

রায় ও গেজেট কার্যকর, তবু শপথে বাধা কেন?—মানিকগঞ্জে ক্ষোভ 

admin / ৫৪ Time View
Update : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

71

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিজয়ী ঘোষিত এবং নির্বাচন কমিশনের সংশোধনী গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও কে এম বজলুল হক খানকে এখনো শপথ পড়ানো হয়নি। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন এই দীর্ঘ বিলম্ব?

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে পূর্বে বিজয়ী ঘোষিত গোলাম মহীউদ্দিনের নাম বাতিল করে ‘চশমা’ প্রতীকের প্রার্থী কে এম বজলুল হক খানকে বৈধভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে গেজেটভুক্ত করেছে। তবে গেজেট প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় পার হলেও শপথ গ্রহণ না হওয়ায় বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন প্রশাসন শাখা থেকে প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখের সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনি মামলা নং ০১/২০২২-এ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল, মানিকগঞ্জের ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখের রায়ের আলোকে চেয়ারম্যান পদে পূর্বে নির্বাচিত ঘোষিত গোলাম মহীউদ্দিনের নির্বাচন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ওই রায়ের ভিত্তিতে কে এম বজলুল হক খানকে নির্বাচিত ঘোষণা করে কমিশন ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেট সংশোধন করে।

সংশোধনী গেজেটে আগের গেজেটে থাকা গোলাম মহীউদ্দিনের নাম, পরিচয় ও ঠিকানার পরিবর্তে কে এম বজলুল হক খান, পিতা: নূরুল হক খান, গ্রাম: পশ্চিম বান্দুটিয়া, উপজেলা: মানিকগঞ্জ সদর, জেলা: মানিকগঞ্জ—এই তথ্য প্রতিস্থাপন করা হয়। ২৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যার ১৭১৯১ নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট তথ্যও এভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে উঠে এসেছে নির্বাচনি অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র। মামলার আদেশে বলা হয়, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, উপঢৌকন বিতরণ, ভোটগ্রহণে অনিয়ম, সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রতীয়মান হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ফলাফল নিয়ে সরাসরি কারচুপির অভিযোগ পুনঃগণনায় প্রমাণিত না হলেও নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করা, ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটদান ব্যাহত করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যে সমর্থিত। ফলে জেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৬ অনুযায়ী গোলাম মহীউদ্দিনের নির্বাচন বাতিলযোগ্য এবং একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে কে এম বজলুল হক খানই যথাযথভাবে নির্বাচিত।

**গেজেট আছে, শপথ নেই**

সংশোধনী গেজেট প্রকাশের পর সাধারণত দ্রুত শপথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো বজলুল হক খানকে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ পড়ানো হয়নি। এতে মানিকগঞ্জে আলোচনা ও সমালোচনা জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের রায় ও সরকারি গেজেট কার্যকর হওয়ার পরও শপথে বিলম্ব প্রশাসনিক অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত দেয়।

এ পরিস্থিতিতে কে এম বজলুল হক খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে আবেদন করে গেজেট অনুযায়ী তাকে শপথ পড়িয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, রায় ও গেজেটের পরও দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হওয়া মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশার পরিপন্থী।

**শপথ না হওয়ায় হাইকোর্টে রিট**

দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে বিষয়টি পরে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আকারে উপস্থাপিত হয়। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারি করেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে জানতে চান, ২৮ আগস্ট ২০২৫-এর গেজেট অনুযায়ী আবেদনকারীকে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ না পড়ানো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আবেদনকারীর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

**মানিকগঞ্জে আলোচনা, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন**

ট্রাইব্যুনালের রায়, নির্বাচন কমিশনের সংশোধনী গেজেট এবং হাইকোর্টের রুল—সব মিলিয়ে বিষয়টি মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী মহল ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, আইনগতভাবে বিজয়ী ঘোষিত একজন জনপ্রতিনিধিকে শপথ পড়াতে বিলম্ব করা হলে তা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, গণরায়ের প্রতিফলনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাদের মতে, আদালতের রায়, নির্বাচন কমিশনের গেজেট এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category