হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা আবারও ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছেন। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি কৃষক।
ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র, কৃষকের দুর্দশা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তবে তালিকা প্রস্তুতের এই পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা কি যথাযথ সহায়তা পাবেন?
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন, অথচ সুবিধাভোগীদের নাম তালিকায় স্থান পায়। যেসব কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে সারা বছরের জীবিকা সংকটে পড়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
আমাদের দাবি, প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগ, কৃষক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
বিশেষভাবে বর্গাচাষি, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা নয়, আগামী মৌসুমে চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে সার, বীজ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষিঋণ পুনঃতফসিল বা মওকুফের মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের ক্ষতি মানে জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক যেন তার ন্যায্য সহায়তা পান, সেটিই এখন সময়ের দাবি।
সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কারণ, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
মিনহাজ উদ্দীন আত্তার