সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

বিশেষ কলাম নীরব ষড়যন্ত্র: যখন বিশ্বাসই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অস্ত্র লেখক: ……

admin / ৪০ Time View
Update : শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬
Oplus_16908288

43

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

বিশেষ কলাম :

ষড়যন্ত্র বলতে আমরা সাধারণত রাষ্ট্রীয় চক্রান্ত, ক্ষমতার লড়াই কিংবা রাজনৈতিক গোপন সমঝোতার কথা বুঝি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বর্তমান সমাজে সবচেয়ে ভয়ংকর ষড়যন্ত্রগুলো আর ক্ষমতার অলিন্দে সীমাবদ্ধ নেই। সেগুলো নীরবে ঢুকে পড়ছে ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং মানুষের চিন্তার গভীরে।
এই ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো বিশ্বাস।
ষড়যন্ত্রের নীরব শুরু
নীরব ষড়যন্ত্র কখনোই হঠাৎ করে আঘাত হানে না। এটি শুরু হয় ধীরে। প্রথমে কাউকে বোঝানো হয়—আপনি আলাদা, আপনি বিশেষ, আপনি অন্যদের চেয়ে বেশি বোঝেন। এই পর্যায়ে প্রশংসা, সহমর্মিতা এবং অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে এক ধরনের মানসিক নির্ভরতা তৈরি করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী বুঝতেই পারে না—সে আসলে একটি পরিকল্পিত আবহের মধ্যে প্রবেশ করছে।
বিচ্ছিন্নতাই মূল লক্ষ্য
ষড়যন্ত্রের দ্বিতীয় ধাপ হলো বিচ্ছিন্নতা।
বন্ধুদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা হয়,
পরিবারের পরামর্শকে অবমূল্যায়ন করা হয়,
সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এক সময় ভুক্তভোগী নিজেই চারপাশের মানুষদের থেকে দূরে সরে যায়। এই একাকীত্বই ষড়যন্ত্রকারীর সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ একা মানুষ প্রশ্ন করে কম, মানে বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: আধুনিক ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্র
ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীরব ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আংশিক সত্য, আবেগী শব্দচয়ন এবং নির্বাচিত তথ্য ব্যবহার করে মানুষের চিন্তাকে একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
বারবার একই বার্তা দেখলে মানুষ সেটাকেই সত্য বলে ধরে নেয়। এভাবেই প্রশ্ন করার প্রবণতা কমে আসে, আর বিশ্বাস জায়গা করে নেয় যাচাইয়ের বদলে।

কেন মানুষ সহজে শিকার হয় মানুষ নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতা খোঁজে। যে তাকে শুনছে, বুঝছে এবং সমর্থন দিচ্ছে—তার ওপর সে স্বাভাবিকভাবেই আস্থা রাখে। এই মানবিক চাহিদাকেই ষড়যন্ত্রকারীরা কৌশলে ব্যবহার করে। যেখানে ভয় দেখানো হয়,
যেখানে ভিন্নমতকে দমন করা হয়,
যেখানে প্রশ্ন করাকে অপরাধ বানানো হয়—
সেখানেই ষড়যন্ত্র সফল হয় সবচেয়ে বেশি।প্রতিরোধের একমাত্র পথ
নীরব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা। প্রশ্ন করার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং ভিন্নমতকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা।
যে আপনাকে ভাবতে বাধা দেয়, সে আপনাকে দুর্বল করতে চায়।
যে ভয় দেখিয়ে বিশ্বাস আদায় করে, সে আপনাকে ব্যবহার করতে চায়।
উপসংহার
ষড়যন্ত্র সব সময় দৃশ্যমান হয় না। অনেক সময় এটি ঘটে ভালোবাসার ভাষায়, সম্পর্কের আড়ালে এবং বিশ্বাসের ছদ্মবেশে। তাই সবচেয়ে জরুরি হলো—নিজের চিন্তা ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।
কারণ
যে ষড়যন্ত্র চোখে ধরা পড়ে না,
সেটিই একদিন আমাদের চোখ দিয়েই দুনিয়া দেখায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category