স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধান ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বৈধ আয়ের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি সম্পদ! এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চাকরি জীবনে একজন এনবিআর কর্মকর্তার সম্ভাব্য বৈধ আয়ের তুলনায় সহিদুল ইসলামের পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ গুণ বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একটি বহুতল ভবন রয়েছে, যেখানে প্রায় ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর, বাংলামোটর, ইস্কাটন, পূর্বাচল, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, প্লট ও ভবন রয়েছে। এছাড়া নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে বাণিজ্যিক দোকান, শিল্পকারখানায় বিনিয়োগ এবং শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা বা অভিযোগপত্র প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এনবিআরের বিভিন্ন কর্মকর্তার সম্পদ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে পূর্বে জানা গেছে।
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে আনা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি বলে তারা মনে করেন।