নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ
পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কফি ও কাজু বাদাম চাষ। প্রচলিত জুম চাষের পাশাপাশি লাভজনক এই দুই ফসল আবাদ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক কৃষক। ফলে পাহাড়ি জনপদে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা ও ব্যাপক উৎসাহ।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস টিম খাগড়াছড়ির পাহাড়ের পাদদেশে কফি ও কাজু বাদাম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যা আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রচারিত হবে। প্রতিবেদনে পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজু চাষের সম্ভাবনা, কৃষকদের সাফল্য এবং সরকারি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে।
কফি ও কাজু বাদাম প্রকল্পের ডিইএ প্রজেক্ট ডিরেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, কফি ও কাজু বাদামের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রসেসিং সহজলভ্য করা এবং বাজারজাতকরণ সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি পেলে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ কফি ও কাজু বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকেরা ধান, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কফি ও কাজু বাগান গড়ে তুলছেন।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ছোট-বড় অসংখ্য কফি ও কাজু বাগান গড়ে উঠেছে। অনেক কৃষক জানান, আগে জুম চাষে তেমন লাভ না হলেও বর্তমানে কফি ও কাজু বাদাম বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেন। এতে পরিবারের জীবনমানও উন্নত হচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু গাছ লাগাই। পরে ফলন ভালো হওয়ায় এখন বড় পরিসরে চাষ করছি। বাজারে কফি ও কাজু বাদামের চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছি।”
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, চারা বিতরণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কফি শিল্প গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে কফি ও কাজু বাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান আরও উন্নত হবে।