সংবাদ শিরোনাম
সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন?সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা রাজশাহীতে বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাজপথের ‘খড়কুটো’ বনাম ক্ষমতার হালুয়া-রুটি: কর্মী, তোমার বিবেক জাগবে কবে? নিকুঞ্জ থেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা রবিন হোসেন রাহাত আটক নিউইয়র্কে ডেন্টিস্ট্রিতে এমএস সম্পন্ন করলেন ডা. উম্মে রুম্মান সেজুতি প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলি প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অন্যায়ের মুখে অবিনাশী কলম ঢাকা-আঙ্কারা অক্ষ: দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের প্রত্যয়ে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ সাংস্কৃতিক শিক্ষা নতুন প্রজন্ম গঠনের অপরিহার্য অংশ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নথি বলছে কারাগারে, মামলার কাগজ বলছে ঘটনাস্থলে—তদন্তে বড় অসঙ্গতি

জেলের চার দেয়ালে আসামি, আর এজাহারে বাইরে ডাকাতি!

admin / ৪৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

76

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল চকরিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

চকরিয়ায় পুলিশের একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত ঘিরে গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে। কারাগারে আটক থাকা আবুল বশরকে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখিয়ে নতুন মামলায় আসামি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে,প্রকৃত অর্থে তিনি জেল হাজতের চার দেয়ালে কারা ভোগ করছে কিন্তু মামলার কাগজ বলছে ঘটনাস্থলে ছিলেন। যা তদন্তের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ।আবুল বশর চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের হাফালিয়াকাটা মোরাপাড়া এলাকার নুরু সওদাগরের পুত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে , গত ২৩ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে চকরিয়া থানার জিআর-১৩৪/২০২৫ নম্বর মামলায় (বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারা) পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কিন্তু বিস্ময়করভাবে, গত ২৪ মে ২০২৫ ইং তারিখে চকরিয়া থানায় দায়ের হওয়া আরেকটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-৫৮) তাকে পুনরায় আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনার সময় তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাগার সূত্র অনুযায়ী, ২৩ মার্চ ২০২৫ থেকেই তিনি কারাবন্দি এবং পরবর্তী ৩ মাস ৪ দিন ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে কারাগারেই অবস্থান করছেন।

আসামির স্বজনদের অভিযোগ, আবুল বশর আগে থেকেই জেলে আছেন, এটা পুলিশ খুব ভালো করেই জানে। শুধুমাত্র হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাকে এই সাজানো মামলায় জড়ানো হয়েছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তি কীভাবে বাইরে এসে অপরাধ করে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

এ বিষয়ে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মঈন উদ্দিন বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে নতুন মামলায় আসামি করা আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে জটিলতা তৈরি করে। যদি পুলিশ যাচাই-বাছাই না করেই এমনটি করে থাকে, তবে তা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি সুস্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কারাগার রেজিস্টার ও হাজতি তালিকার তথ্য অনুযায়ী, উক্ত ঘটনার দিন তিনি কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি ছিলেন। অর্থাৎ এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সময় ও তার শারীরিক অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি সাংঘর্ষিক তথ্য পাওয়া গেছে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তাকে বাইরে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা তদন্তে গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়া এ ধরনের ঘটনায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই এজাহার গ্রহণ ও আসামি অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা হয়রানিমূলক মামলার আশঙ্কা তৈরি করে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে।

মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, কারাগারে আটক ব্যক্তিকে নতুন করে অপরাধে জড়ানো হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক অধিকার পরিপন্থী হতে পারে।

এ বিষয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, আসামি যদি গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে থাকে বাইরের কোন অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশের কাজে যদি ভুল হয়ে থাকে বা তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি থাকে সেটা আদালত ব্যাবস্থা নেবেন।

উপরোক্ত বিষয়ে ঘটনার তদন্তকালীন সময়ে দ্বায়িত্বে থাকা তৎকালীন ওসি শফিকুল ইসলাম(বিপি নং-৭৪৯২০৩৪৫৫) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আরকানুল ইসলাম(বিপি নং-৯৩২১২৩৮৬৯৬) এর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আরকানুল ইসলাম গত ৩০ মে (শনিবার) এক নারী ভিকটিমকে উদ্ধার করতে লাঠিচার্জের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category