বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে টানপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রবিন হোসেন রাহাত (৪৭)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে খিলক্ষেত থানা পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খিলক্ষেত থানা-এর মামলা নম্বর ০৪(০৮)২৪-এর ১০৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে রবিন হোসেন রাহাতের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া রবিন হোসেন রাহাত নিকুঞ্জ-২-এর ক/২ টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে টানপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তার পিতা মো. আবুল হোসেন মাতব্বর এবং মাতা মরহুম মনোয়ারা বেগম।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আবুল হোসেন মাতব্বর খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে এবং তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তবে এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই রবিন হোসেন রাহাতকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে খিলক্ষেত থানায় নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “খিলক্ষেত থানার একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মোহাম্মদ রবিন হোসেন রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমনে খিলক্ষেত থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মামলার তথ্য-প্রমাণ ও আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো আসামিকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।”
রবিন হোসেন রাহাতের গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া রবিন হোসেন রাহাতকে আদালতে সোপর্দ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।