খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রামগড় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত নওমুসলিম পরিবারের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করেছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। সংগঠনটির উদ্যোগে গরু কোরবানি করে প্রায় ৭০টি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এবং শনিবার (৩০ মে) রামগড় উপজেলার তৈছালা পাড়ায় এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পাহাড়ের হতদরিদ্র নওমুসলিম পরিবারগুলোর মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযায। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, জাফর তালুকদার, মাওলানা ইছহাক আলী, মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহিন আলম ও এস. এম. রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোস্তফা আল ইহযায বলেন, জেলার অধিকাংশ নওমুসলিম পরিবার দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করে এবং তারা মূলত দিনমজুর, কাঠুরিয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোরবানি দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। পাশাপাশি দুর্গম অবস্থানের কারণে অনেক সময় সামাজিকভাবে বিতরণ হওয়া কোরবানির মাংস থেকেও তারা বঞ্চিত থাকেন। এ বাস্তবতায় সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের নওমুসলিম জনগোষ্ঠী শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় চর্চা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
রামগড়ের সমাজসেবী শাহিন আলম বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও বহু পরিবার মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
কোরবানির মাংস পেয়ে নওমুসলিম পরিবারগুলোর সদস্যদের মাঝে আনন্দ ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই জানান, বছরের এই বিশেষ দিনে এমন সহযোগিতা তাদের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ইসলামিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি জাগ্রত করে। সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে পাহাড়ের অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশবাসী, মুসলিম উম্মাহ, দাতা সদস্য এবং নওমুসলিম পরিবারগুলোর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তিনি দেশের শান্তি, সম্প্রীতি এবং পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন।
সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতেও পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও নওমুসলিম পরিবারগুলোর পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।