সংবাদ শিরোনাম
সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন?সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা রাজশাহীতে বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাজপথের ‘খড়কুটো’ বনাম ক্ষমতার হালুয়া-রুটি: কর্মী, তোমার বিবেক জাগবে কবে? নিকুঞ্জ থেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা রবিন হোসেন রাহাত আটক নিউইয়র্কে ডেন্টিস্ট্রিতে এমএস সম্পন্ন করলেন ডা. উম্মে রুম্মান সেজুতি প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলি প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অন্যায়ের মুখে অবিনাশী কলম ঢাকা-আঙ্কারা অক্ষ: দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের প্রত্যয়ে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ সাংস্কৃতিক শিক্ষা নতুন প্রজন্ম গঠনের অপরিহার্য অংশ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ভিকটিমের ছবি প্রকাশের নেপথ্যে কী? চকরিয়া থানার ওসিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

ভিকটিমের পরিচয় ফাঁসের অভিযোগে চকরিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

admin / ১৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

36

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল  কক্সবাজার(চকরিয়া) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আইন অনুযায়ী যৌন নির্যাতনের শিকার কোনো নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ হলেও কীভাবে থানার অফিসিয়াল ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে ওই কিশোরীর ছবি প্রকাশিত হলো—তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র কৌতূহল ও ক্ষোভ।
ঘটনার জেরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি এক ধর্ষণ মামলার ভিকটিম কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তার একটি ছবি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজটি ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, থানার অফিসিয়াল পেজে কোনো ভিকটিমের ছবি প্রকাশের আগে কী ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল? ছবিটি কে তুলেছিলেন, কে আপলোড করেছিলেন এবং প্রকাশের আগে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন চকরিয়া থানার একজন উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই বিতর্ক থেকে জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ভিকটিমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির ছবি, নাম বা পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন তথ্য প্রকাশ করা শুধু অনৈতিক নয়, এটি ভিকটিমের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপরও সরাসরি আঘাত। এতে ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের সামাজিক ও মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং ভিকটিম সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নে পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।
এদিকে লিগ্যাল নোটিশে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিকটিমের সব তথ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে চাকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ বলেন, ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের ছবি চকরিয়া পুলিশ স্টেশন নামে একটি ফেইসবুক আইডিতে প্রকাশিত হয়েছে জানতে পেরেছি। এই যদি হয়ে থাকে তাহলে খুবই দুঃখজনক। আমি এখনো দেখিনি দেখে জানাচ্ছি।
এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিজেদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ কতটা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category