ঢাকা, রাজধানী ২৯ নভেম্বর ২০২৫: ইং বাংলাদেশে বাড়তে থাকা ভূমিকম্প ঝুঁকি ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করেছে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড। রাজধানীতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞেরা ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা, নিরাপদ অবকাঠামো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জাপানের দুই খ্যাতিমান স্থপতি—SAKO Architects–এর প্রতিষ্ঠাতা কেইইচিরো সাকো এবং VERITAS Japan LLC–এর প্রিন্সিপাল হিসায়া সুগিয়ামা।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় অনুভূত একাধিক ভূমিকম্প ভবিষ্যৎ ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমকে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, “যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে আমরা ‘সেফটি কামস ফার্স্ট’ নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই, যাতে গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।”
শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত সেমিনারে
সেমিনারের আলোচনায় অংশ নেন দেশের খ্যাতিমান প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বুয়েটের প্রফেসর ড. এম. শামীম জেড. বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান, স্থপতি মোস্তফা খালিদ পলাশ, প্রফেসর ড. ফাহমিদা গুলশন; রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান; বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান; এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (ট্রেনিং, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, পিএসসি।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ বড় ধরনের ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই মজবুত বিল্ডিং কোড, আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ ও কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজউক, আইইবি, আইএবি, ফায়ার সার্ভিস, বিইউপি, মিস্ট, বসুন্ধরা গ্রুপ, জলশিরি, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও। অংশগ্রহণকারীরা দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুর্যোগ-সহনশীল নগরায়ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে জেসিএক্সের পক্ষ থেকে ভূমিকম্প-সংক্রান্ত সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।