স্টাফ রিপোর্টার: রায়হান হোসেন
সরকারি নির্দেশনায় ৫০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের সমর্পিত অর্থ ফেরতসহ ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন পেনশনাররা। এ দাবিতে গঠিত ‘৫০% পেনশন সমর্পণকারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ’-এর অভিষেক ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগের হোসাফ টাওয়ারের লেভেল-৪-এ আয়োজিত সভায় পেনশনারদের বিভিন্ন দাবি, অধিকার এবং পেনশন ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক ড. রুহুল আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী এমএইচ রশিদ, ফজলুল হক মনোয়ার, খন্দকার আবিদ আহম্মেদ, মো. মনিরুল ইসলাম শেখ, মো. ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, মর্জিনা খাতুনসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পেনশনাররা।
‘একই দেশের পেনশনারদের জন্য ভিন্ন নীতি হতে পারে না’
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। বিশেষ করে ৫০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনারদের সমর্পিত অর্থ ফেরতের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো নীতি বা বিধান না থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, একই শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নীতি ও বিধান কার্যকর থাকা বৈষম্যমূলক। তাই দ্রুত এই বৈষম্য নিরসন করে ৫০ শতাংশ সমর্পিত পেনশনের অর্থ ফেরতের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
সভায় বক্তারা ৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে জারি করা এবং ১ জুলাই ২০১৭ থেকে কার্যকর হওয়া সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সৃষ্ট বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তাদের দাবি, ১ জুলাই ২০১৭-এর আগে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা ৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর পুনরায় পেনশন পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অথচ ১ জুলাই ২০১৭ থেকে কার্যকর সরকারি আদেশের আওতায় ৫০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীদের সমর্পিত অর্থ ফেরতের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
১০ দফা দাবি:
‘দাবি মোদের একটাই—ন্যায্য অধিকার চাই’—এই স্লোগান সামনে রেখে সভা থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
১. অবশিষ্ট ৫০% আনুতোষিক ফেরত:
মাসিক পেনশন গ্রহণকারী পেনশনারদের সমর্পিত অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আনুতোষিকের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
২. মাসিক পেনশন বৃদ্ধি:
বর্তমান মাসিক পেনশন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. বাড়িভাড়া ভাতা:
মাসিক পেনশনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা প্রদান করতে হবে।
৪. চিকিৎসা ভাতা:
পেনশনারদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করতে হবে।
৫. মৃত্যুর পর পেনশন সুবিধা:
পেনশনারের মৃত্যুর পর বিধি অনুযায়ী তাঁর ওয়ারিশদের পেনশনের সব প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. চিকিৎসা সুবিধা:
পেনশনার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৫০ শতাংশ খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা ব্যয় সরকারি কল্যাণ তহবিল থেকে বহনের দাবি জানানো হয়।
৭. বিনোদন ও যাতায়াত সুবিধা:
মাসিক পেনশনের ৩০ শতাংশ হারে চিত্তবিনোদন ভাতা এবং মেট্রোরেলসহ সরকারি যানবাহনে ৫০ শতাংশ ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা দিতে হবে।
৮. রেশন সুবিধা:
সকল পেনশনারকে দুই ইউনিট রেশন সুবিধা দিতে হবে।
৯. একই পদে একই পেনশন পদ্ধতি:
একই পদবির সকল পেনশনারের জন্য অভিন্ন পেনশন পদ্ধতি চালু করতে হবে।
১০. পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মুনাফা:
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সব ধরনের স্ল্যাব বাতিল করে প্রতি লাখে মাসিক ন্যূনতম ১ হাজার টাকা মুনাফার ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান
সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, পেনশনাররা তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর জীবনে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তাই পেনশনারদের ১০ দফা দাবি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
একই সঙ্গে দেশের সকল পেনশনারকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায্য অধিকার ও ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
স্লোগান:
দাবি মোদের একটাই—ন্যায্য অধিকার চাই।