ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২৬:
রাজধানীর উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১০/বি রোডের ২৬ ও ২৬/এ নম্বর প্লটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ড্যাবের নেতৃত্বে কয়েক দফায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হন। গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়।
পরবর্তীতে হাসপাতালের মূল ফটক ভেঙে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে গভর্নিং বডি নিয়ে বিরোধের পেছনে আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত ৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ওই চিঠিকে কেন্দ্র করে একদল তরুণ হাসপাতালের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক এ কে এম আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন গভর্নিং বডি পুনর্গঠন করে।
তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি, গভর্নিং বডির বৈধতা নিয়ে বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নতুন গভর্নিং বডি গঠন ও দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা ঘিরেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে দলীয় প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।