স্টাফ রিপোর্টার: আশরাফুননেছা
ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬:
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যিনি নিজ এলাকায় জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং তার বাস্তব প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন, তাকেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় ডিএনসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাধীন সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “শুধু পদ-পদবি থাকলেই কাউন্সিলর হওয়া যায় না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে হবে এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কেবল পদ-পদবি বিবেচনা করে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন অনুমোদন দেবেন না; জনসেবায় বাস্তব অবদানই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।”
তিনি বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে সরকারের মূল লক্ষ্য নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রশাসক আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্ব অনুসরণ করে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকতে হবে।
রাজধানীর পানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার কয়েকটি এলাকায় তীব্র পানি সংকট ছিল। ঢাকা ওয়াসার সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে পানির পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সেই সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, খাল পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ফলে বর্তমানে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমেছে। জনগণের সহযোগিতায় খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ডিএনসিসিকে ডেঙ্গুমুক্ত নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
হকার পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলেও অনেকে পুনরায় ফুটপাতে বসছেন, যা নগর ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। হকার ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
তিনি আরও জানান, এলাকার সড়ক সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হোল্ডিং ট্যাক্স যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।