স্টাফ রিপোর্টার: নার্গিস আক্তার
ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, “আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না; বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে সায়েন্স টয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
রোববার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার (Foundational Learning Action Tracker—FLAT) শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামের মধ্যে ‘সায়েন্স টয়’সহ হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে।
পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ল্যাবে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখতে পারবে।
মৌলিক শিক্ষার ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব
ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থেকে গেলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই শিশুদের মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনা হবে
‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
মিড-ডে মিলের ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগ
মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, সেটিও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রকল্প হতে হবে বাস্তবভিত্তিক
প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর না করে অপারেশনাল ও বাস্তবভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে। তবে সেই দর্শন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমাদের দর্শন হলো দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্প যখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে, তখন সেটি হতে হবে সম্পূর্ণ অপারেশনাল। ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি করা হচ্ছে, কীভাবে মনিটরিং হচ্ছে—এসব বিষয়ে আমরা আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করছি।”
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।