ঢাকা, তারিখ ০৩ আগস্ট ২০২৬
গ্যাসের দাম কমানো না হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে যুক্ত ‘হিডেন চার্জ’ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তীব্র গ্যাস সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উত্তরা অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং বিদ্যুৎ বিলে যুক্ত অতিরিক্ত ‘হিডেন চার্জ’ প্রত্যাহার করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। অন্যথায় গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ওই আন্দোলনে উত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ২০১৮ সাল থেকেই এর ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক শাসকদলের সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের সময় শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনারও নিন্দা জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদকে কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় এর রাজনৈতিক পরিণতি সরকারকে বহন করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতি দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হলে জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন পর্যাপ্তভাবে দেখা যাচ্ছে না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আগামী ৫ আগস্ট, যাকে তিনি ‘৩৬ জুলাই’ ও ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেন, সেদিন সকাল ১০টায় পল্টনে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জসীমউদ্দীন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, উত্তরা মডেল থানা আমির ইব্রাহীম খলীল, উত্তরা পশ্চিম থানা আমির মাজহারুল ইসলাম, উত্তরা পূর্ব থানা আমির মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণখান পশ্চিম থানা আমির আবু সাঈদ শাহনেওয়াজ, দক্ষিণখান উত্তর থানা আমির মোস্তাকিম আলম এবং উত্তরখান পূর্ব থানা আমির ইসরাঈল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।