সংবাদ শিরোনাম
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সরাসরি ন্যায়বিচারের পথ সুগম করেছে প্রস্তাবিত আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫০% পেনশন সমর্পণকারীদের ১০ দফা দাবি সমর্পিত অর্থ ফেরতসহ বৈষম্য নিরসনে দ্রুত নীতি প্রণয়নের আহ্বান ঢাকা ১৮ আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সাহেব এর সাথে উত্তরা কম্পিউটার সমিতির সভাপতি বেলাল মোল্লা মেহেদী র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের শুভেচ্ছা বিনিময়। এ সময়ে উত্তরা কম্পিউটার সমিতির সদস্য দের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সাংসদ উত্তরা কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা  দক্ষিণখানে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, আসামি গ্রেফতার মামলা তুলে নিতে শিশুটির পরিবারকে হুমকির অভিযোগ স্পার সাইনবোর্ডে আড়ালের ব্যবসা? গুলশানে শাহ আলম-রাজুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তের দাবি পশ্চিম আইনুছবাগ হাউস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা বাড়ি-ফ্ল্যাট ও জমির মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় উত্তরা মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার অভিযোগ, আহত পরিচালকসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এমপির(পিএস) এর আপন ভাই শানুরকে আটক করেও থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ! অভিযোগ এলাকা বাসির

নিকুঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান, দখলমুক্ত বিআরটিসি-সংলগ্ন সার্ভিস রোড

admin / ৪৪ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-১-এর ২ নম্বর গেট ও বিআরটিসি-সংলগ্ন সার্ভিস রোডের পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ ভাসমান দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ ইং দুপুরে  পরিচালিত অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন পর গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস রোডটির পাশের অংশ দখলমুক্ত হয়।
ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মারুফা বেগম নেলির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অভিযান শেষ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিকুঞ্জ-১-এর ২ নম্বর গেট ও বিআরটিসি-সংলগ্ন সার্ভিস রোডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এ পথ ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশের জায়গা দখল করে ভাসমান দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল।
দোকানের সামনে মালামাল রাখা, ক্রেতাদের ভিড় এবং বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সার্ভিস রোডটি সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। অনেক সময় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও কয়েক দফা ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পর আবার সেখানে দোকানপাট বসেছে। ফলে এবারের অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করলেও পুনরায় দখল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের প্রশ্রয়ে উচ্ছেদের পরও নতুন করে দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই উচ্ছেদের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন, “দীর্ঘদিনের দাবির পর ডিএনসিসির এই উচ্ছেদ অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। বিআরটিসি-সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস রোডটি অবৈধ দখলের কারণে দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে ছিল। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু উচ্ছেদ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। এর আগে অভিযান চালানোর পরও জায়গাটি আবার দখল হয়েছে। এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি জায়গা ও জনসাধারণের চলাচলের পথ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকতে পারে না।”
জাহিদ ইকবাল বলেন, “আমরা কারও জীবিকার বিরুদ্ধে নই, আমরা অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে। মানবিকতা ও আইনের সমন্বয়ে স্থায়ী সমাধান চাই। নিকুঞ্জকে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিআরটিসি-সংলগ্ন হওয়ায় এলাকাটি এমনিতেই ব্যস্ত। এর সঙ্গে সার্ভিস রোডের পাশে অবৈধ দোকানপাট থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বাড়তি চাপ তৈরি হতো। ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠত।
অবৈধ দোকানপাটের কারণে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। দোকানের বর্জ্য, পণ্যসামগ্রী ও অন্যান্য আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকায় সড়কের পাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল।
স্থানীয়দের মতে, কোনো জায়গায় অবৈধ দখল শুরু হলে তা দ্রুত বিস্তৃত হয়। তাই শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নিকুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও সরকারি জায়গায় ভবিষ্যতে নতুন করে দখলের চেষ্টা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবারের অভিযানের পর সার্ভিস রোডের পাশে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে উচ্ছেদ করা জায়গা যেন পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি চালানোর প্রত্যাশা তাঁদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানকে স্থায়ী সুফলে রূপ দিতে হলে দখলমুক্ত জায়গা সংরক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি—দুইটাই নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই নিকুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই সার্ভিস রোডটি দীর্ঘমেয়াদে পথচারী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category