রাজিয়া শিকদার রিয়া :সহ-সম্পাদক
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬:
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকা সবুজে ভরে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেছেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ কমানো ও প্রকৃতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসির আয়োজনে এবং ‘পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা-বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ঢাকা শহরে এখন আগের মতো গাছপালা নেই। বায়ুদূষণে সারা পৃথিবীতে ঢাকার অবস্থান ওপরের সারিতে, যা আমাদের কারও কাম্য নয়। পরিবেশ সুন্দর রাখতে এবং নানা রোগব্যাধি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে বেশি করে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতিকে বাঁচাতে ও কার্বন ডাই-অক্সাইড কমাতেও বৃক্ষরোপণ জরুরি।”
মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুস সালাম নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “এই স্কুলে পড়ার সময় চারপাশে যে সুন্দর বাগান দেখেছি, তা এখন আর নেই। ঝড়-ঝঞ্ঝার সময় সুন্দরবন যেমন প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসেবে বাংলাদেশকে রক্ষা করে, গাছও তেমনি আমাদের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।”
তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ৫০০টি এবং প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ৫০০টি করে গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। কামরাঙ্গীরচরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি আগামী দুই দিনের মধ্যে খিলগাঁওয়েও গাছ লাগানো হবে। এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব তোমাদের মধ্য থেকেই আসবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়ি, ছাদ কিংবা টবে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ‘পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা-বাংলাদেশ’-এর সভাপতি অধ্যাপিকা সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহমিনা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন।