আকিকুর রহমান রুমন : বানিয়াচং, হবিগঞ্জ
১৩ আগস্ট ২০২৬ ইং
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ইয়াবাসহ মুসা চৌধুরী (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো এবং পরে তার জামিনে মুক্তির ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকায় অভিযান চালায় বানিয়াচং থানা পুলিশ। এ সময় ওই এলাকার আছকির চৌধুরীর ছেলে মুসা চৌধুরীকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তারদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে মুসা চৌধুরীকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মুসা চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে তাকে পুলিশের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয় এবং ওই মামলায় তিনি কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন। এর আগেও বানিয়াচং থানা পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে এলাকার তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে বানিয়াচং থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওসি নাজমুল হকের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মুসা চৌধুরীকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর বিষয়ে পুলিশের এক সদস্য বলেন, সম্ভবত তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার দেখানোর মতো পর্যাপ্ত আলামত পাওয়া যায়নি বলেই এভাবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ওসি নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযান পরিচালনাকারী এএসআই সোরাবের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মুসা চৌধুরীর গ্রেপ্তার, ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো এবং দ্রুত জামিনে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা পুলিশের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।