হবিগঞ্জ প্রতিনিধি, আকিকুর রহমান রুমন:
১৩ আগস্ট ২০২৬ ইং
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ফ্যামেলি কার্ড শুমারির ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথীর কার্যালয়ে ঢুকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ফ্যামেলি কার্ড শুমারিতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ আবেদনকারী অংশ নেন। এর মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী ১০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয় এবং ৬০ শতাংশ আবেদনকারীকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। বাকি আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর কয়েকজনের নাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তালিকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার আসামি এবং বিভিন্নভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজনদের নাম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে শতাধিক বিক্ষোভকারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। পরে তারা সমাজসেবা কার্যালয় ঘেরাও করে ফলাফল বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলে সমাজসেবা কার্যালয়ের এক কর্মচারী পাশের ভবনে আশ্রয় নেন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন। ওই ভবনের তৃতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয় থাকায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী সেখানে গিয়ে ইউএনওর সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন এবং ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
এ সময় হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজের ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান আহমেদের বিরুদ্ধে ইউএনওর কার্যালয়ে ঢুকে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিওতে তাকে ‘আজকে তুই শেষ’ ধরনের বক্তব্য দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন বলেন, ফ্যামেলি কার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ নিয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, ১ হাজার ৬০০ আবেদনকারীকে নয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। নয়জন দক্ষ কর্মকর্তাকে বোর্ডে রাখা হয়। মেধাক্রম অনুযায়ী ১০০ জনকে চূড়ান্ত এবং ৬০ শতাংশকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের রেজাল্ট শিট দেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় কোনো আসামির নাম থাকলে তা জানালে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি নিয়োগপত্রে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস রঞ্জন বিশ্বাস জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।