ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬:
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেছেন, দেশের সব ধর্ম ও মতের মানুষ যাতে নিজ নিজ জায়গা থেকে কথা বলতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি বিরল বিষয় হলো—এ দেশের অধিকাংশ মানুষই ধার্মিক। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যদি নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করেন এবং তার শিক্ষা ধারণ করেন, তাহলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামীম কায়সার বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে বাংলাদেশে একটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থাকা প্রয়োজন। আর বেগম খালেদা জিয়া ধর্মীয় মূল্যবোধকে অনেক বেশি সম্মান করতেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই বিএনপি বড় একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং মানুষের মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে।
তাঁকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে একটি সংগঠনের দেওয়া বিবৃতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি নির্বাচনে কোনো দলকে শতভাগ মানুষ ভোট দেয় না; পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। তেমনি কোনো একটি নিয়োগকে শতভাগ মানুষ পছন্দ করবে—বিষয়টি এমন নয়।
তিনি বলেন, অনেক সময় কোনো বিষয় সরাসরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে কিংবা খণ্ডিত কোনো তথ্য গেলে সেটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। যোগাযোগ ও কথাবার্তা যত বেশি হবে, কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে সেগুলোও নিরসন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
শামীম কায়সার আরও বলেন, তিনি গতকাল জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়েছেন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে বসা আলেমদের কিছু প্রশ্ন ছিল। তাঁর বিশ্বাস, তিনি তাদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন এবং তাঁরা তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিভিন্ন মতের ওলামায়ে কেরামদের সহাবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে। শুধু ইসলাম ধর্মের নেতৃবৃন্দই নন, অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মীয় গুরুদের কাছেও তিনি যাবেন। টুকটাক যে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, সেগুলোও দূর হয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।