বরিশাল বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা-র ২নং ইলুহার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিরাজুল ইসলাম রাজু-র নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই চক্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে ইকরামুল সিকদার, এনামুল সিকদার ও সিরাজুল ইসলাম রাজু-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার বাদী মুজাহিদুল হক মুরাদ অভিযোগ করেন, তিনি ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই তার ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু হয়। আসামিরা তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং নির্বাচনে জেতানোর আশ্বাস দেয়। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত ২৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাখার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইলুহারে সিদ্দিক মোল্লার চায়ের দোকান-এর সামনে বসে থাকা অবস্থায় মুরাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার বৃদ্ধ পিতা মোক্তার সিকদার-ও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাকারীরা কিল-ঘুষি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে গেলে তা কপালে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। হামলাকারীরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়, যাতে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, একটি চেক বই ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি রাজু ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও মোবাইল ফোনে নির্দেশ দিয়ে হামলা পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, তার অনুমতি ছাড়া এলাকায় কোনো কিছুই ঘটে না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রাজুর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠে, যারা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষ দমনে সক্রিয় ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ,
উন্নয়ন কাজ করতে ‘হাদিয়া’ দিতে হয়
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয়
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের পর থেকে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হয়নি।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বানারীপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করে অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনো আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। তাদের দাবি, বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।