স্টাফ রিপোর্টার: নার্গিস আক্তার
ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর রামপুরার হাতিঝিলে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শ্রী শ্রী তারকব্রক্ষ হরিনাম মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে “সবার আগে বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তির দেশ। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো বিভেদ নেই। সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায় যেভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পান বা না পান, প্রধানমন্ত্রী যাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, তিনি সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
প্রশাসক বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা যখনই কোনো প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনে এসেছেন, তিনি সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন এবং এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের মন্দির ও বসতবাড়ির নিরাপত্তায় পাশে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই বাংলাদেশ সবার। এখানে কোনো বৈষম্যের স্থান নেই। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগকে সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, মন্দির ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে রাখলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা তা যথাযথভাবে অপসারণ করবে। একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সুধীজন এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।