সংবাদ শিরোনাম
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সরাসরি ন্যায়বিচারের পথ সুগম করেছে প্রস্তাবিত আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫০% পেনশন সমর্পণকারীদের ১০ দফা দাবি সমর্পিত অর্থ ফেরতসহ বৈষম্য নিরসনে দ্রুত নীতি প্রণয়নের আহ্বান ঢাকা ১৮ আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সাহেব এর সাথে উত্তরা কম্পিউটার সমিতির সভাপতি বেলাল মোল্লা মেহেদী র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের শুভেচ্ছা বিনিময়। এ সময়ে উত্তরা কম্পিউটার সমিতির সদস্য দের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সাংসদ উত্তরা কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা  দক্ষিণখানে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, আসামি গ্রেফতার মামলা তুলে নিতে শিশুটির পরিবারকে হুমকির অভিযোগ স্পার সাইনবোর্ডে আড়ালের ব্যবসা? গুলশানে শাহ আলম-রাজুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তের দাবি পশ্চিম আইনুছবাগ হাউস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা বাড়ি-ফ্ল্যাট ও জমির মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় উত্তরা মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার অভিযোগ, আহত পরিচালকসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এমপির(পিএস) এর আপন ভাই শানুরকে আটক করেও থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ! অভিযোগ এলাকা বাসির

৬৫ বছর বয়সে নিজের বাড়ি গ্রামছাড়া কমলা বেগম, দুলাল চৌকিদারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

admin / ৪৬ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন

৬৫ বছর বয়সে নিজের বসতবাড়ি, পৈতৃক ও মাতৃসূত্রে পাওয়া জমি এবং মা-বাবার কবরস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকার অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের পাঁচালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কমলা বেগম।

ভুক্তভোগী কমলা বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার অভিযোগ, এসব ঘটনার কারণে তিনি নিজের বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না এবং বর্তমানে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকতে হচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কমলা বেগম বলেন, তার নিজের কোনো সন্তান নেই। স্বামীও বেঁচে নেই। জীবনের শেষ সময়ে তিনি নিজের মা-বাবার ভিটায় ফিরে যেতে চান। এমনকি নিজের মায়ের কবরস্থানেও যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কমলা বেগমের দাবি, তার মায়ের দেওয়া জমি এবং বাবার সম্পত্তিতে তিনি যেতে পারছেন না। তার একটিমাত্র থাকার ঘর সেই ঘর দুলাল চৌকিদার তালা মেরে দিয়েছেন । তিনি বলেন, আমি আমার মা-বাবার ভিটায় ফিরতে চাই। আমার মা-বাবার কবরটা দেখতে চাই। জীবনের শেষ সময়ে এটুকু অধিকার আমি চাই।

এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

কমলা বেগমের ছোট বোন হালিমারও অভিযোগ, দুলাল চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুলাল চৌকিদার ও তার পরিবারের সঙ্গে এলাকার অনেকের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো, মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয় বর্তমান ইউপি সদস্য নুর ইসলাম হাওলাদার বলেন, দুলাল চৌকিদার ও তার পরিবারের কার্যকলাপ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে কোনো অভিযোগের বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, অতীতে দুলাল চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি কারাভোগও করেছেন। সম্প্রতি তাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন কয়েকজন। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

কমলা বেগমের আরও অভিযোগ, দুলাল চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের কারণে তিনি ও তার মা অতীতে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল চৌকিদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কমলা বেগমের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের বিরোধ ও আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি কমলা বেগমের আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা সাংবাদিক প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন, সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন, কালের কণ্ঠের নাসির খান, সাংবাদিক জামালসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে কমলা বেগম বলেন, সাংবাদিকরা আমার শেষ ভরসা। আপনারা সাধারণ মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য কাজ করেন। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে আমার মা-বাবার ভিটা, নিজের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান দেখার সুযোগ করে দিতে সহযোগিতা করুন।

তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। আমি আমার নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই। জীবনের শেষ সময়ে নিজের ভিটায় শান্তিতে থাকতে চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে কমলা বেগমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় পর্বে বিস্তারিত ✍️


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category