নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ সফল করার লক্ষ্যে কক্সবাজারের উত্তর নুনিয়াছড়া ঘাটে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি”—স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২০ আগস্ট শুরু হওয়া এ শুমারি চলবে আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে শুমারির লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী (এনডি, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি, বিএন) স্থানীয় জনগণ ও জেলেদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
তিনি বলেন, সমুদ্র ও নদীর মোহনায় নৌযানের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। বাকখালী নদীর মূল নেভিগেশন চ্যানেল থেকে অবৈধ বেহুন্দি জাল অপসারণ এবং জেলেদের মাছ ধরার জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণে উপস্থিত কোস্টগার্ড প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া বাকখালী নদীতে বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে পলি অপসারণ এবং বয়া ও বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেদের শুমারিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত হলে নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সহায়তা সহজে পাবেন।
তিনি আরও বলেন, নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইজ তৈরি হলে মেরিটাইম সেক্টরে হয়রানি ও আইনি মামলা কমবে, মালিকানা দাবি ও ক্ষতিপূরণসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে নিজ নামে নৌযান নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মানোন্নয়নের পাশাপাশি নৌপথে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অবহিতকরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. জাকির হোসেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার (রু.দা.) মির্জা সাইফুর রহমান, নৌ-বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার (রু.দা.) শেখ মো. জালাল উদ্দিন গাজী, প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার সাইফুল আহমাদ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মো. তাইফুর আহমেদ ভূঁইয়া, প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মো. মাহমুদুর রহমানসহ নৌযান মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং বিবিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।