ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬:
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব ও কৃষিবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী।
মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পার্বত্য অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পার্বত্যাঞ্চলকে কৃষিবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তামাক চাষ বন্ধ করে পাহাড়ি কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজুবাদাম ও কফি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি অর্গানিক ফলের বাগান বৃদ্ধি ও রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সুরক্ষায় কোল্ড স্টোরেজ ও ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সংকট নিরসনেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও চলমান প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত পরিবারগুলোকে সরকারি খাসজমিতে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা হবে। ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা প্রথাগত বিধি অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দ্রুত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি পাহাড়ি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজুবাদাম, কফি, মাশরুম ও লটকন চাষ এবং ভেড়া-মেষ পালনের মাধ্যমে পাহাড়ি অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।