রাজিয়া শিকদার রিয়া সহ-সম্পাদক
ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীতে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও পয়ঃশোধনাগার (STP) স্থাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার গুলশান সোসাইটি পার্কে আয়োজিত এ সভায় গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রতিটি ভবনে আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে লেক ও জলাশয়ে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও STP স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য পরিবেশসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। সরকার আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে কাজ করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, গত দুই মাসে রাজউক ৪,৪০৯টি ভবন পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১,৫৮৭টি ভবনে সেপটিক ট্যাংক রয়েছে, আর ২,৮২২টি ভবনে নেই। এছাড়া সোক ওয়েল রয়েছে মাত্র ৩৪১টি ভবনে, অথচ ৪,০৬৮টি ভবনে এর কোনো ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ১৯৬১ সালের লীজ ডিড অনুযায়ী প্রতিটি প্লটে সেপটিক ট্যাংক স্থাপন বাধ্যতামূলক এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবন মালিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কিছু ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি লেকে সংযুক্ত থাকায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আধুনিক সুয়ারেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্জ্য নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্টে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সোসাইটির প্রতিনিধিরা নিয়মিত তদারকি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ রাজধানীতে টেকসই, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।