নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলস্টেশনে এক শারীরিকভাবে অসুস্থ যাত্রীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীসেবার মান ও মানবিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী কাজী মেহেদী হাসান জানান, ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি বোনারপাড়া রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী লালমনি এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেণির একটি টিকিট ক্রয় করেন। তাঁর কোচ ছিল ‘ঘ’ এবং আসন নম্বর ছিল ৪১।
তিনি জানান, স্টেশনে পৌঁছে দেখেন তাঁর ট্রেনটি দ্বিতীয় লাইনে অবস্থান করছে, আর প্রথম লাইনে আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। পা ভাঙার কারণে তিনি বর্তমানে ক্রাচের সাহায্যে চলাফেরা করেন। এ অবস্থায় দ্বিতীয় লাইনে থাকা ট্রেনে ওঠা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
মেহেদী হাসানের অভিযোগ, তিনি স্টেশন মাস্টারের কাছে নিরাপদে ট্রেনে ওঠার জন্য সহযোগিতা চান। কিন্তু স্টেশন মাস্টার তাঁকে প্রথম লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন পার হয়ে দ্বিতীয় লাইনে থাকা লালমনি এক্সপ্রেসে উঠতে বলেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না এবং ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি ব্যবহার করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এমন পরামর্শ বাস্তবসম্মত ছিল না। তিনি দাবি করেন, স্টেশন কর্তৃপক্ষ চাইলে সামান্য সহযোগিতা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাঁকে নিরাপদে ট্রেনে উঠতে সহায়তা করতে পারতেন।
তিনি আরও বলেন, একজন স্টেশন কর্মকর্তার অন্যতম দায়িত্ব হলো অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। কিন্তু এ ধরনের দায়িত্বহীন আচরণ সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর মতে, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং মানবিক দায়িত্ব নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারী।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্টেশন মাস্টার বা সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।