কাজী আরিফ: স্টাফ রিপোর্টার ,ঢাকা
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না সিএনজি ও গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা। কোথাও আবার গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় “গ্যাস নেই” লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। এতে পরিবহন খাত, শিল্পকারখানা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।
রাজধানীর উত্তরা, মহাখালী, বগুড়াবাজারসহ বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, শত শত সিএনজি ও গ্যাসচালিত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক চালক দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার যারা গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন, তারাও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করায় প্রতিদিনের ট্রিপ কমে যাচ্ছে এবং আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু গাড়ির মালিকরা আগের মতোই নির্ধারিত জমা আদায় করছেন। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
একজন সিএনজি চালক বলেন, “আগে জ্বালানি তেলের সংকট ছিল, এখন গ্যাস সংকট। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে যাত্রী পরিবহন করব কখন? এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।”
গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। শিল্প-কারখানা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ অবস্থায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিএনজি চালক, শিল্প উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।